ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিহীন সেজে সরকারি ঘর বরাদ্দ-২ বছরের মাথায় ৫০ লাখ টাকার ২ তলা ভবন নির্মাণ রাণীশংকৈলে অভিযোগের পরও নিরব প্রশাসন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১৫ ২১:৫১:৪৮
ভূমিহীন সেজে সরকারি ঘর বরাদ্দ-২ বছরের মাথায় ৫০ লাখ টাকার ২ তলা ভবন নির্মাণ রাণীশংকৈলে অভিযোগের পরও নিরব প্রশাসন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভূমিহীন সেজে সরকারি ঘর বরাদ্দ-২ বছরের মাথায় ৫০ লাখ টাকার ২ তলা ভবন নির্মাণ রাণীশংকৈলে অভিযোগের পরও নিরব প্রশাসন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের মীরডাঙ্গী গুচ্ছগ্রামে প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করে ভূয়া তথ্য দিয়ে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর হাতিয়ে নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে নূর ইসলাম (নূর আলম) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু সরকারি ঘর নেওয়াই নয়, সরকার পরিবর্তনের সুযোগে সরকারি আশ্রয়নের ঘর ভেঙে সেই খাস জমিতে তিনি এখন নির্মাণ করছেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের ২ তলা বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাসা। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে,সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের নীতি অনুযায়ী প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার কথা থাকলেও টাকার জোর ও প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে কোটি টাকার মালিক নূর ইসলাম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে মীরডাঙ্গী গুচ্ছগ্রামে সরকারি ঘর বরাদ্দ নেন। অথচ সে সময় ওই এলাকার অসংখ্য প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার একটি ঘরের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তা পাননি। সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নূর ইসলাম সরকারি ঘর ছেড়ে দিয়ে সেই খাস জমিতেই ২ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে ভবনের এক তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে

স্থানীয়দের দাবি, এই ভবন নির্মাণেই প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। এক সময়ের ভূমিহীন সনদ নিয়ে ঘর পাওয়া ব্যক্তির এমন বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ দেখে হতবাক পুরো এলাকাবাসী। সোহরাব,সেলিম,আশরাফুল সহ গুচ্ছগ্রামের একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘর বরাদ্দের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সে সময় সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) জহিরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তা সাবেক পিআইও সামিয়েল মার্ডির কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও তারা রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরবর্তীতে খাস জমিতে ৫০ লাখ টাকার ২ তলা পাকা ভবন নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমানের কাছে অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


ফলে বহাল তবিয়তে খাস জমি দখল করে আলিশান ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন ওই ব্যক্তি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ও ভূয়া ভূমিহীন নূর ইসলামের বরাদ্দ বাতিল করতে হবে। একই সাথে সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে নির্মাণাধীন ভবন বাজেয়াপ্ত করা এবং প্রকৃত কোনো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে তা পুনর্বণ্টনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নূর ইসলামের স্ত্রী জানান, আমরা সরকারের কাছ থেকে ভূমিহীন হিসেবে ঘর বরাদ্দ নিয়েছি। এখন ২ তলা বিশিষ্ট( ফ্লাইট বাসা) সরকারি জমিতে কেন নির্মাণ করতেছেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার স্বামী ঢাকায় একটি বড় চাকুরী করেন। এসব বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। সহকারী কমিশনার ভূমি মজিবুর রহমান মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম মুঠো ফোনে জানান,আমি বিষয়টি অবগত নয়। খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ